Posts

আল কোরআন : পরিবর্তনের চালিকা শক্তি

Image
মূল: ডঃ মাগদি আল হিলালি  অনুবাদ: মুহাম্মদ আবুল হুসাইন ‘রমজান সেই মাস, যে মাসে পবিত্র কোরআন নাযিল করা হয়েছে, যা সমগ্র মানবজাতির জন্য জীবন-যাপনের বিধান এবং সুস্পষ্ট উপদেশাবলীতে পরিপূর্ণ; যা সঠিক ও সত্যপথ প্রদর্শন করে এবং সত্য ও মিথ্যার মধ্যে সুস্পষ্ট পার্থক্য তুলে ধরে।’ -[আল বাকারা :১৮৫] পবিত্র কোরআনকে যারা বাস্তবিকই হেদায়াতগ্রন্থ এবং আত্মশুদ্ধিরউপায় হিসেবে গ্রহণ করে তাদের জীবনে আল কোরআন বিস্ময়কর পরিবর্তন সাধন করেথাকে। এ পরিবর্তন হয় বিরাট এবং মৌলিক। কোরআন তাদের চরিত্রের পুনর্গঠন করেএবং তাদেরকে নতুন ছাঁচে, নতুন রূপে গড়ে তোলে, যে রূপকে আল্লাহ্ খুবই পছন্দকরে থাকেন। কোরআনের এই প্রভাব সম্পর্কে কারো মনে যদি কোন সন্দেহ থেকে থাকে, তাহলে তিনি মহানবীর সাহাবীদের জীবনের দিকেই তাকিয়ে দেখতে পারেন যে তাদেরজীবনে কী বিরাট পরিবর্তন সাধিত হয়েছিল। ইসলামের আবির্ভাবের পূর্বেতাদের জীবন ছিল দারুন দুর্বিষহ এবং ঘোর অন্ধকার ও অজ্ঞতার মধ্যে নিমজ্জিত।কিন্তু কোরআনের স্পর্শ তাদের চরিত্রে কী পরিবর্তনটাই না ঘটিয়ে দিল! মূলতএর মাধ্যমে কোরআনের পরিবর্তন ও পুনর্গঠন ক্ষমতারই প্রমাণ পাওয়া যায়।কোরআনের কা...

আল কোরআন: রমজান মাসের বড়ত্বের গোপন রহস্য

Image
মূল: খুররম মুরাদ  অনুবাদ: মুহাম্মদ আবুল হুসাইন মাহে রমজানের বড়ত্ব ও গুরুত্বের গোপন রহস্য আমাদের জানতে হবে। এই পবিত্র মাসকে যথাযথ গুরুত্ব দিয়ে কাজে লাগিয়ে আমরা আমাদের জীবনকে আলোকিত করতে চাই, সমৃদ্ধ করতে চাই। কিন্ত এই মাস নিজে কতটা আলোককে, কতটা সমৃদ্ধিকে ধারণ করে আছে বা কী কারণে এই মাস এতটা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে তা জানতে না পারলে এর যথাযথ গুরুত্ব যেমন আমরা উপলব্ধি করতে পারব না, তেমনি এ থেকে যথাযথ ফায়দা লাভের উদ্দেশ্য সাধনেও আমরা একনিষ্ঠ, দৃঢ়সংকল্পবদ্ধ এবং স্থিরচিত্তও হতে পারব না। এই মাসের বড়ত্ব, গুরুত্ব ও মহত্বেও মূলে রয়েছে একটি বিষয়, আর তা হল আল্লাহ’র কালাম আল কোরআনের আত্মপ্রকাশ। এই মাসেই ক্বদরের রাত্রিতে সর্বপ্রথম লাওহে মাহফুজে সমগ্র আল কোরআন নাযিল এবং সংরক্ষণ করা হয়। তারপর এই মাসেই পৃথিবীতে হেরা গুহায় সর্বপ্রথম কোরআন নাযিল শুরু হয় এবং রাসূলের তেইশ বছরের নবুওয়তি জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রয়োজন অনুসারে অল্প অল্প করে সমগ্র কোরআন নাযিল সম্পন্ন হয়। অন্যকথায়, অত্যন্ত মেহেরবান ও অতিশয় দয়ালু আল্লাহ রাব্বুল আ’লামীন এ মাসেই আমাদের মাঝে সর্বশেষ আসমানী কিতাব নাযিল করে মানবজাতির...

রোজা কী, কেন, কীভাবে?

Image
মাওলানা মুজাম্মিল সিদ্দিকী  অনুবাদ: মুহাম্মদ আবুল হুসাইন রোজা কী? আল কোরআনের পরিভাষায় রোজাকে বলা হয়‘ সাওম’। আরবি ‘সাওম’ শব্দের আভিধানিক অর্থ হচ্ছে ‘বিরত থাকা’। এ প্রসঙ্গে সূরা মরিয়মে উল্লেখিত হযরত ঈসা (আ.)’র মা  হযরত মরিয়মের একটি উক্তি এখানে উল্লেখ করা যায়: ‘আমি পরম করুণাময়ের জন্য রোজার মানত করেছি। এ কারণে আজ আমি কারও সাথে কথা বলব না।’ -সূরা মরিয়ম: আয়াত ২৬। এখানে মা মরিয়মের বক্তব্য থেকে বুঝা যাচ্ছে যে, যেহেতু তিনি রোজা রেখেছেন, সেহেতু তিনি কারো সাথেই কথা বলা থেকে বিরত থাকবেন। ইসলামী শরীয়তের পরিভাষায় ‘সাওম’ বলতে বুঝায়, ‘আল্লাহ’র সন্তুষ্টির আশায় সুবহে সাদিক থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত সকল প্রকার খাদ্য-পানীয় এবং যৌনতা থেকে বিরত থাকা। রোজা কেন রাখব? ১.রোজার উদ্দেশ্য পবিত্র কোরআন মজিদে রোজা বা সাওম সাধনার উদ্দেশ্য সম্পর্কে বলা হয়েছে : ‘হে ঈমানদারগণ, তোমাদের উপর রোজা ফরাজ করা হল যেমন ফরজ করা হয়েছিল তোমাদের পূর্ববর্তীদের উপর, যাতে তোমরা তাক্বওয়ার গুণাবলী অর্জন করতে পারো।’ -(সূরা আল বাকারা, আয়াত ১৮৩)। তাক্বওয়া আল কোরআনের একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ আধ্যাত্মিক এবং নৈতিক পরিভাষা। ...

রমজান মাসে গুনাহ থেকে বেঁচে থাকার ১০টি উপায়

Image
মূল: সালমানআল ওয়াদাহ   অনুবাদ: মুহাম্মদ আবুল হুসাইন পবিত্র রমজান মাসে আমাদের নিজেদের মধ্যে এমন কিছু গুণ-বৈশিষ্ট্য অর্জনকরা উচিত যা আমাদেরকে গুণাহ থেকে বেঁচে থাকতে সাহায্য করবে এবং সেই সাথে অনাকাক্সিক্ষতভাবে কোন গুনাহ হয়ে গেলে সাথে সাথেই যেন আমাদের মধ্যে অনুশোচনাবোধ তৈরি হয় এবং আমরা যেন যথাযথভাবে তওবা করে নিজেদেরকে শুধরে নিতে সক্ষম হই। এখানে আমরা এমন দশটি গুণ-বৈশিষ্ট নিয়ে আলোচনা করব যেগুলো এ বিষয়ে আমাদেরকে সাহায্য করবে বলে আমরা আশাবাদী। ১) দৃঢ় সিদ্ধান্ত: গুনাহ থেকে বেঁচে থাকারজন্য সিদ্ধান্তের দৃঢ়তাএকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সিদ্ধান্তে অটল থাকতে না পারা বা দুর্বল সিদ্ধান্তের কারণে আমরা অনেক সময় বিবেকহীন কাজ বা গুনাহ করে ফেলি এবং তওবার উপর অটল থাকতে পারি না। যে কারণেআজ হয়তো অনুশোচনা করলাম কিন্তু কালই আবার ভুলে গেলাম এবং আবার তওবা করলাম এবং আবার ভূল করলাম। সিদ্ধান্তের উপর অটল বা দৃঢ় থাকার রয়েছে কয়েকটি উপায়। প্রধানউপায় হল আল্লাহ’র স্মরণ। আমরা আমাদের হৃদয়টিকে আল্লাহ’র দিকে রুজু রাখার চেষ্টা করতে পারি। মনের মধ্যে আল্লাহ’র স্মরণ এবং ভয় জারি থাকলে কারো পক্ষে গুনাহ করা সম্ভব হয় না। আ...

যৌবনের যত্ন [চার]: পুরুষ হরমোন ঘাটতির ১০টি লক্ষণ

Image
মুহাম্মদ আবুল হুসাইন: পুরুষ হরমোন (টেস্টোস্টেরন) ঘাটতির ১০টি লক্ষণ কখন বুঝবেন আপনি পুরুষ হরমোন (টেস্টোস্টেরন) এর ঘাটতিতে ভুগছেন? টেস্টোস্টেরন ঘাটতির ১০টি লক্ষণ ও এর করনীয় নিয়েই আমাদের আজকের আলোচনা। ১) কর্ম শক্তি লোপ পাওয়া ক্লান্তি বা অবসাদগ্রস্থতা টেস্টোস্টেরন কমে যাওয়ার সাধারণ লক্ষণ। এ ক্ষেত্রে আপনি স্বাভাবিক করমস্প্রিহা হারিয়ে ফেলতে পারেন বা মাত্রাতিরিক্ত অবসাদ অনুভব করতে পারেন। তবে অন্য অনেক কারনও আছে যা আপনার কর্মস্প্লিহা কমিয়ে দিতে পারে,  যেমন- বিষণ্ণতা ও বার্ধক্য । দৈনিক ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা ঘুম আপনার কর্মস্প্লিহাকে ফিরিয়ে আনতে পারে । তবে অস্বাভাবিক ক্লান্তি অনুভব করলে আপনার ডাক্তারের পরামর্শ নিন । ২) যৌন দুর্বলতা যৌন স্প্রিহা হ্রাস পাওয়া এবং যৌন দুর্বলতা টেস্টোস্টেরন কমে যাওয়ার একটি প্রধান লক্ষণ। টেস্টোস্টেরনের অভাবে বীর্য উৎপাদনের পরিমাণও মারাত্মকভাবে কমে যেতে পারে। শুধুমাত্র টেস্টেটেরনের ঘাটতিই যৌন স্প্রিহা হ্রাসের একমাত্র কারন নয়; হৃদরোগ কিংবা ডায়াবেটিসের কারনেও এমনটি হতে পারে। তবে টেস্টেটেরন যৌন আকাঙ্ক্ষা তৈরি, বীর্য উৎপাদনে এবং এগুলোকে সজিব ও সক্রিয় রাখত...

যৌবনের যত্ন [তিন]: পুরুষদের দেহে টেস্টোস্টেরনের প্রভাব

Image
মুহাম্মদ আবুল হুসাইন: টেসটোসটেরন মাত্রা পুরুষদের সবকিছুকে প্রভাবিত করে। প্রজনন ব্যবস্থা এবং  যৌনতা থেকে শুরু করে পেশীর ভর, হাড়ের ঘনত্ব, কণ্ঠস্বর, চুল এবং এমনকি পুরুষদের সুনির্দিষ্ট কিছু আচরণ পর্যন্ত। অন্তঃস্রাবী ব্যবস্থায় (Endocrine System):  দেহের অন্তঃস্রাবী ব্যবস্থা কতগুলো গ্রন্থির সমন্বয়ে গঠিত, যা হরমোন উৎপাদন কাজে নিয়োজিত। হাইপোথ্যালামাস অগ্র মস্তিষ্কের একটি অংশ যা থ্যালামাসের ঠিক নিচে অবস্থিত, সেটি পিটুইটারি গ্রন্থিকে জানিয়ে দেয় আপনার শরীরে কতটুকু টেসটোসটেরন দরকার, তারপর পিটুইটারি গ্রন্থি অণ্ডকোষকে সেই বার্তা পাঠিয়ে দেয়। বেশিরভাগ টেসটোসটেরনই তৈরি হয় অন্ডকোষে, তবে অল্প পরিমাণ টেসটোসটেরন আসে অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি থেকে, যা কিডনির ঠিক উপরে অবস্থিত। নারীদের ক্ষেত্রে, অ্যাড্রিনাল গ্রন্থি এবং ডিম্বাশয় অল্প পরিমাণে টেসটোসটেরন উৎপাদন করে থাকে। প্রকৃতপক্ষে, একটি ছেলে শিশুর জন্মের আগ থেকেই তার পুরুষ যৌনাঙ্গ গঠনের কাজ শুরু করে দেয় এই টেস্টোস্টেরণ হরমোন।বয়ঃসন্ধি সময় ছেলেদের মধ্যে যে পুরুষোচিত  বৈশিষ্ট্যগুলো সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে, যেমন ভরাট গলা বা কণ্ঠস্বর, পুরুষোচিত বাড়ন্ত শ...

যৌবনের যত্ন: পুরুষ হরমোন - পৌরুষের মূল শক্তি

Image
মুহাম্মদ আবুল হুসাইন পুরুষ হরমোন বা টেস্টোস্টেরন টেস্টোস্টেরন পুরুষত্বের জন্য দায়ী প্রধান স্টেরয়েড হরমোন যা এন্ড্রোজেন গ্রুপের অন্তর্ভুক্ত| মানুষ সহ সকল স্তন্যপায়ী,পাখি সরীসৃপ প্রাণীর শুক্রাশয়ে এটি উৎপন্ন হয়। স্তন্যপায়ী প্রাণীর ক্ষেত্রে পুরুষের শুক্রাশয় এবং নারীর ডিম্বাশয় থেকে উৎপন্ন হয়,যদিও স্বল্প পরিমাণ অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি থেকে ক্ষরিত হয়।  টেস্টোস্টেরন একটি অত্যাবশ্যক প্রধান পুরুষ হরমোন যা শুক্রাশয়ের লিডিগ কোষ (Leydig Cell) থেকে উৎপন্ন হয়। এটি পুরুষের বৈশিষ্ট্যাবলীর উন্নয়ন এবং রক্ষণাবেক্ষণের জন্য দায়ী।নারীদেরও টেসটোসটেরন রয়েছে, কিন্তু তা পুরুষদের তুলনায় অনেক কম পরিমাণে। পুরুষদের মাঝে টেস্টোস্টেরন বিপাক হার নারীদের তুলনায় ২০ গুণ বেশি। পুরুষের জন্য টেস্টোস্টেরন প্রজনন অঙ্গ যেমন শুক্রাশয় (Testis) বর্ধনের পাশাপাশি গৌণ বৈশিষ্ট্য যেমন মাংসপেশি,শরীরের লোম বৃদ্ধি করে। টেস্টোস্টেরন সাধারণত পুরুষের পৌরুষত্ব এবং জীবনীশক্তি বজায় রাখতে সহযোগিতা করে। এটি শুধু যৌনতাই নয়; পুরুষের আরো অনেক বিষয়ের উপর প্রভাব ফেলে।এই হরমোনটি  হাড় ও পশী স্বাস্থ্য, শুক...